বিখ্যাত লেখক রকিব হাসান যিনি কিনা কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ “তিন গোয়েন্দার” জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। আজ তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। আজ ১৫ অক্টোবর রোজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
তোফায়েল আহমেদ এর সর্বশেষ অবস্থা, তিনি কি বেঁচে আছেন
রকিব হাসান
১৯৫০ সালের ১২ই ডিসেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক রকিব হাসান।তবে ছেলে বেলা কেটেছে ফেনীতে। ফেনীতেই তিনি তার স্কুল লাইফ শেষ করেন।এরপর ফেরত যান কুমিল্লায়।গিয়ে কুমিল্লার বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া কলেজে। এরপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে অন্য দশ জনের মতন তিনিও যোগ দিয়েছিলেন চাকরিতে।তবে মন বসাতে পারে নি।খাঁচায় বন্দি জীবন থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিলেন তিনি।ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখির উপর এক অবিচ্ছেদ্য টান ছিল তার।অবশেষে চাকরির মায়া পরিত্যাগ করে লেখালেখিতেই মনোনিবেশ করেন।
সেবা প্রকাশনীর হাত ধরেই লেখালেখির জীবন শুরু হয় রকিবের। একই সাথে সেবা প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত “রহস্যপত্রিকা”য় সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেবা প্রকাশনী থেকেই প্রকাশিত হতে কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ “তিন গোয়েন্দা”।যার হাত ধরে তিনি বইপোকাদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে যান।
রকিব হাসানের বইসমূহ
নিজ নাম ও ছদ্মনাম মিলিয়ে আজ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪০০’র উপর বই লিখেছেন।তার প্রথম বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে।চমকপ্রদ ব্যাপার টা হলো তার প্রথম বইটিই ছদ্মনামে লেখা। নিজ নামে তিনি প্রথম যে বইটি প্রকাশ করেছিলেন সেটা ছিল একটি অনুবাদ বই। বিখ্যাত আইরিশ ঔপন্যাসিক ব্র্যাম স্টোকারের “ড্রাকুলা” বইটি তিনি প্রথম অনুবাদ করেছিলেন।
তার লেখা সবগুলো বইয়ের মধ্যে সবচয়ে জনপ্রিয় বই ছিল মুসা,কিশোর ও রবিন কে নিয়ে লেখা “তিন গোয়েন্দা” সিরিজ। সেবা প্রকাশনী থেকে ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয় এটি।তার লেখা চারশো বইয়ের মধ্যে শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দা সিরিজ নিয়েই লিখেছেন ১৬০ টি।অনুবাদ বই রয়েছে প্রায় ৩০ টি।
ব্র্যাম স্টোকার ছাড়াও তিনি জেরাল্ড ডুরেল,এরিক ফন দানিকেন ,ফার্লে মোয়াট এর মতন লেখক ক্লাসিক ক্লাসিক বই গুলো অনুবাদ করেন। মহাক্ল্যাসিক অ্যারাবিয়ান নাইটস ,টারজান ,আরব্য রজনীর গল্প সহ বহু বই তিনি অনুবাদ ঙ্করেন ।মূলত অনুবাদ বই দিয়েই তিনি লেখালেখির চর্চা শুরু করেন।
এছাড়াও তিনি ছদ্মনামে যেমন জাফর চৌধুরী নামে রোমহর্ষক , আবু সাইদ নামে গোয়েন্দা সিরিজ লিখেছেন। প্রকৃত নামে লিখেছেন কিশোর গোয়েন্দা রেজা-সুজা খুদে গোয়েন্দা র মতন সিরিজ গুলো।সেবা প্রকাশনী থেকে ইস্তফা দেও্যার পর তিন গোয়েন্দা সিরিজ টি তিনি “তিন বন্ধু ও গোয়েন্দা কিশোর-মুসা-রবিন নামে লেখা শুরু করেন।
রকিবের লেখা এই নস্টালজিক লেখার চরিত্র গুলো আজও অনেকের মনে কল্পনাতে উকি দেয়।আনমনে না জানি কত কৈশর কল্পনায় নিজেকে মুসা রবিন বা কিশর ভেবে কত রহস্য উদঘাটন করে।
রকিব হাসান আর নেই
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত কারণে নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন রকিব হাসান। ডায়বেটিস সহ কিডনী জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কিডনী দুটই বিকল হয়ে যাওয়াতে স্পতাহে দু দিন ডায়ালাইসিস করতে হতো তাকে। রুটিন মাফিক দিন হিসেবে আজও তিনি ডায়ালাইসিস করতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে যান।যাওয়ার পর হঠাত তিনি অসুস্থ হয়ে যান।তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সেই মুহূর্তে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাক্তার মুহিবুল্লাহ খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান ,”নিয়মিত তিনি এই হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে আসতেন। আজও তিনি রুটিন মাফিক ডায়ালাইসিস করতে আসেন এবং ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি ওয়েটিং এ থাকা অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে যান। সাথে সাথেই চিকিৎসক টিম চিকিৎসা শুরু করেন কিন্তু তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি”
রকিব হাসানের মৃত্যুর খবর সেবা প্রকাশনীর বর্তমান উপদেষ্টা মাসুমা মাইমুর এক ফেসবুক পোস্ট এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।দীর্ঘ ৬ মাস ধরে তিনি উক্ত হাসপাতাল থেকে ডায়ালাইসিস করছিলেন এবং প্রায়ই অতিরিক্ত অসুস্থ হয়ে আই সি ইউ তে ভর্তি থাকতেন ।ফলে তার পরিবার আর্থিক অস্বচ্ছলতায় ভুগছিল ।

আমি রাহমিম খান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আমি লেখা পড়ার পাশাপাশি লেখা লেখি করতে খুবই ভালোবাসি তাই আমার এই ব্লগ ওয়েবসাইটে আপনাদের সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করে থাকি।

